চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে জিল্লুর রহমান (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কি ঘটেছিল?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিল্লুর রহমান পেশায় একজন ফেরিওয়ালা। তিনি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে গ্রামে গ্রামে ডিম বিক্রি করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে দামুড়হুদার এক গ্রামে ডিম বিক্রি করতে গেলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশু ডিম কিনতে বাড়ির পাশে ইটের পালার কাছে যায়। সেসময় আশপাশে কেউ না থাকায় জিল্লুর রহমান শিশুটিকে জাপটে ধরে এবং তার গায়ে হাত দেয়।
ভয়ে শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। এরপর স্থানীয়রা জিল্লুর রহমানকে আটক করে এবং গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, পরে থানায় নেয়।
পুলিশের বক্তব্য
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, "অভিযুক্ত জিল্লুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে। মামলার তদন্তের জন্য উপপরিদর্শক (এসআই) সাহেরা খানম ঘটনাস্থলে গেছেন।"
এর আগেও অভিযোগ ছিল
শিশুটির বাবা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগেও দুটি শিশুকে যৌন হয়রানি করেছে, তবে লোকলজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগীরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। তিনি বলেন, "ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো মেয়ে এমন নিপীড়নের শিকার না হয়, সে জন্য আমরা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।"
আইনগত ব্যবস্থা ও জনসচেতনতা জরুরি
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও স্থানীয়দের আরও সচেতন হতে হবে। কোনো ধরনের যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানো উচিত, যাতে অপরাধীরা শাস্তি পায় এবং এমন ঘটনা বন্ধ হয়।
➡ আপনার মতামত কমেন্টে জানান এবং পোস্টটি শেয়ার করুন, যাতে সবাই সচেতন হয়!
0 Comments:
Post a Comment